কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের জগতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। গত দুই বছর ধরে চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো চ্যাটবটগুলো বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করলেও, প্রযুক্তিবিদরা বলছেন এই অধ্যায়টি ছিল কেবল শুরু বা ‘এআই ১.০’। এখন শুরু হতে যাচ্ছে ‘এআই ২.০’ বা ‘অটোনমাস এআই’ এর যুগ। যেখানে এআই শুধু আপনার প্রশ্নের উত্তর দেবে না, বরং আপনার হয়ে কাজও করে দেবে।
প্রযুক্তি বিশ্বে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ‘এজেন্টিক এআই’। এটি এমন এক প্রযুক্তি যা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিলে নিজেই ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, বিমান বা ট্রেনের টিকিট বুক করতে পারে, এমনকি কোডিং বা জটিল দাপ্তরিক কাজও একা সম্পন্ন করতে সক্ষম।
কী এই এআই ২.০?
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই ১.০ ছিল লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম-এর যুগ, যেখানে এআই কেবল তথ্য জানত এবং লিখত। কিন্তু এআই ২.০-তে আসছে ‘লার্জ অ্যাকশন মডেল’ বা ল্যাম। এর বিশেষত্ব হলো এটি মানুষের হয়ে কম্পিউটারে কাজ করতে পারে। যেমন—আপনি যদি এআইকে বলেন, ‘আমার জন্য আগামী সপ্তাহের ছুটিতে কক্সবাজারে একটি হোটেল বুক করো’, তবে এটি শুধু হোটেলের তালিকা দেবে না, বরং আপনার ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে (অনুমতি সাপেক্ষে) বুকিং সম্পন্ন করে ই-মেইল কনফার্মেশনও পাঠিয়ে দেবে।
দৌড়ে এগিয়ে টেক জায়ান্টরা
এই স্বয়ংক্রিয় ভবিষ্যতের দৌড়ে শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরকে টেক্কা দিচ্ছে। ওপেনএআই সম্প্রতি নিয়ে এসেছে তাদের ‘অপারেটর’ এজেন্ট, যা সরাসরি মানুষের পিসিতে কাজ করতে পারে। গুগল কাজ করছে তাদের ‘প্রজেক্ট জার্ভিস’ নিয়ে, যা ক্রোম ব্রাউজারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম। অন্যদিকে, অ্যানথ্রোপিক বাজারে এনেছে ‘কম্পিউটার ইউজ’ প্রযুক্তি, যা মানুষের মতো মাউস ক্লিক করা বা টাইপ করার ক্ষমতা রাখে। মাইক্রোসফটও তাদের ‘কো-পাইলট’কে আরও বেশি এজেন্টিক করার ঘোষণা দিয়েছে।
ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ
তবে এই স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কিছু বড় ঝুঁকিও রয়েছে। বিশেষজ্ঞমহলে প্রশ্ন উঠেছে—এআই যদি নিজে থেকেই কম্পিউটারে কাজ শুরু করে, তবে সাইবার নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত হবে? এছাড়া এআই যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা ভুল জায়গায় অর্থ খরচ করে ফেলে, তবে এর দায়ভার কে নেবে? এআই ২.০-এর ব্যাপক প্রসারের ফলে দাপ্তরিক কাজে মানুষের প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
ভবিষ্যৎ যেখানে
ফাস্ট কোম্পানির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমরা এমন এক সময়ের দিকে এগোচ্ছি যেখানে এআই কোনো আলাদা উইন্ডো বা ওয়েবসাইট হয়ে থাকবে না। বরং এটি অপারেটিং সিস্টেমের ভেতরেই লুকিয়ে থাকবে এবং একজন অদৃশ্য ব্যক্তিগত সহকারীর মতো কাজ করবে। ২০২৫ সাল নাগাদ এই ‘এজেন্ট’গুলো আমাদের দৈনন্দিন ডিজিটাল জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই ২.০ হবে ‘জানার’ চেয়ে ‘করার’ যুগ। যা মানুষের কর্মক্ষমতা ও কাজের গতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
.jpg)